মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে নিয়ে দুই-'একটি কথা.....
আমি ছোট্ট বেলা থেকেই নারীও শিশুদের প্রতি সম্মান- শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আসছি। শিশুদের বেলায়'তো আমি এক প্রকার ব্যাকুল মানুষ। শিশু পেলে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ আমি।.................
এসব বলার একটা কারণ আছে,,,,,,,,,,,,,
গত ৩/৪ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছি। সোমবার থেকেই মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ এ শিশু বুকের দুধ খাওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররাও বলে দিয়েছেন, এ শিশুর জন্য বুকের দুধ অতি-জরুরী। কিন্তু মায়ের বুকের দুধ কোথায় মেলবে..............
শিশুটির মা'ও যে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
গত ২/৩ দিন ধরেই ডাক্তার বাবুরা ও শিশুটির সাথে থাকা দুই ফুফু ও চাচা শিশু সার্জারি ওয়ার্ডটিতে থাকা শতাধিক মায়েদের ( নবজাতক শিশুর মা) কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন,,,,,,,শঙ্কটাপন্ন শিশুটির মুখে একটি বারের জন্য বুকের দুধ তুলে দেয়ার জন্য।
ডাক্তার বাবু ও আত্মীয় স্বজনদের শত আকুতি-বিনতীতেও মন গললো না শতাধিক মায়ের মধ্যে একজনেরও। বাধ্য হয়েই ছোট্ট এ শিশুটিকে বাজারের কেৌটার দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। আর অপর দিকে হয়তো এ শিশুটির মা, যিনি মাগুরা সদর গাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় কাতরাচ্ছেন আর বলছেন, আমাকে একটিবারের জন্য আমার প্রাণ বাচানো সন্তানটির কাছে নিয়ে যাও....আমি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরি.....বুকের দুধ খাওয়াই।।.......
আমি মায়েদের শ্রদ্ধা করি,,,,অনেক। এটা আমার মায়ের দেয়া শিক্ষা। নতোবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে থাকা সকল মায়েদের বলতাম ( মাইংক লাগিয়ে)। মা শুধু নিজের সন্তানদের জন্য নয়, মা হতে হয় সকল সন্তানদের জন্য।....আপনারা কেমন মা, একটি শঙ্কটাপন্ন শিশুকে বুকের দুধ দিতে পারেন না।.....প্লিজ...প্লিজ....মায়েদের ভূমিকা এমন হতে নেই, হওয়া অন্যায়।.....সকল শিশুদেরও নিজের সন্তানের মতো দেখতে হয়। এটাই ইসলাম- এটাই সকল মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত।
শিশু সার্জারি বিভাগের প্রফেসর ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ হাসিনা শিউলী আমায় বলছিলেন,,,,,,, একজন মা গতকাল এ শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে চেয়েছিলেন। ওই মা অনেক আগ্রহ করে এগিয়েও এসেছিলেন। কিন্তু পরোক্ষণে ওই মা ( যিনি বুকের দুধ খাওয়াতে চেয়েছিলেন) একজন মহিলার ইশারায় ( হয়তো শ্বাশুড়ি) ওয়ার্ড থেকে কিছুক্ষণের জন্য বের হয়। পরবর্তীতে ওয়ার্ডে এসে ওই মা সাফ বলে দিলেন, আমিতো বুকের দুধ খাওয়াতে চেয়েছিলাম...কিন্তু পরিবারের স্বজনরা না বলছেন।
উহ্....বলুনতো..এটা ঠিক কিনা.....। আমি ভাবছিলাম..আমার স্ত্রীর যদি নবজাতক শিশু থাকতো..জোর করে হলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠাতাম। বলতাম....মীম প্লিজ...বাবুটাকে ( শঙ্কটাপন্ন শিশু) বুকের দুধ দাও.....প্লিজ......।
আমি অনুরোধ করবো.....যদি আমার কোনো ফেইসবুক বন্ধু নবজাতক শিশুর মা হন...। প্লিজ আপনার আদরের শিশুটিকে কুলে নিয়েই চলে আসুন,,,, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শিশু সার্জারি ওয়ার্ড- (২০৫ নম্বর) এর ২ নং বেডে।...প্লিজ...প্লিজ......। আমি ইসলাম খুব একটা বুঝি না....অন্যদের মতো। মহান আল্লাহ, আমাদের কান্ডারি দু'জাহানের বাদশা হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রতি বিশ্বাস-ভালোবাসার জোরে বলতে পারি......। ওই কাজটি--যে কাজটি আপনি করবেন---মানে শঙ্কটাপন্ন শিশুটিকে বুকের দুধ খেতে দেবেন। আপনি হবেন শ্রেষ্ঠ মানুষ। অবশ্য শ্রেষ্ঠ মানুষবিহীন কোনো মা হয়তো এ শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে আসবেন না। ওই শ্রেষ্ঠ মানুষটিই যেন ছুটে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে..........
মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ এ ছোট্ট শিশুটির দেহে বুধবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বুলেটটি শিশুর ডানপাশের পিঠ হয়ে, বুক, হাত, গলা ও চোখ ভেদ করে। ৬ দিন পর এ ছোট্ট শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হলো। তার ছোট্ট তুলতুল দেহে না জানি কত যন্ত্রণা হচ্ছে...কত জ্বালা হচ্ছে....। ২ কেজিরও কম ওজনের এ গতরটিতে ( দেহ) এক এক করে ২১ টি সেলাই করা হয়েছে। যেসব ডাক্তাররা সেলাই করেছেন, তাদের সাথে কথা বলতেই বললেন, এমন ঘটনা তাদের পেশাগত জীবনে এই প্রথম। কোনো দিন ভাবেননি..এমন একটি শিশু মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাদের কাছে আসবে। .......সেলাইগুলো আটকাচ্ছিল না, রসুনের খোশার ন্যায় ছোট্ট শিশুর চামড়ায় সূতোগুলোও নিরুপায়। .............................আর লিখতে পাড়ছিনা....কীবোর্ডে চোখের জল পড়ছে....। শ্রদ্বেয় বন্ধুরা.... আমি দু:খিত, আমাকে লিখতে হয়েছে বলে....। কারণ গত ৩ দিন ধরে এ নিয়ে পত্রিকার পাতায় লিখছি,.........এসব কথাগুলো লিখতে পারছি না...........
No comments:
Post a Comment