আমার মা
একজন মাঝবয়সী ভদ্রলোক।৪০-৪৫ হবে।মোবাইল ফোনে তার মায়ের সাথে কথা বলছেন।আমি পাশেই বসে।কোনভাবে মোবাইল লাউডস্পিকার অন/ON থাকায় মা আর ছেলের কথোপকথন পুরোটা শুনতে পাচ্ছি আমি....
ছেলে:আম্মা,সেই কখন ফোন দিসি,এতক্ষনে কল ব্যাক করলা..তুমি এতক্ষন কই ছিলা?
আম্মা:রান্না করলাম
ছেলে:কি রান্না করসো মা?
আম্মা: তোরা তো দেশী মুরগী ছাড়া খাস না,আজকে আমার কেন জানি ফার্মের মুরগী খেতে ইচ্ছা করসে,সেটাই রান্না করলাম...একটু খাবিনা?
ছেলে:অবশ্যই খাবো আম্মা,আমার মা রান্না করসে আর আমি খাবোনা!! আচ্ছা আম্মা,আমার না প্রেশার হাই হয়ে গেসে,কি করি বলোতো?তোমার ও হাই প্রেশার এখন আমার ও হাই প্রেশার হা হা হা...আচ্ছা আম্মা তোমার কেন হাই প্রেশার হইলো বলোতো!!
আম্মা:টেনশন করলে হাই প্রেশার হয় বাবা,নানান জিনিস নিয়ে টেনশন করি তো তাই বোধয়।
ছেলে:কেন আম্মা,তোমার কি টেনশন।কি নিয়ে এত টেনশান কর?
আম্মা:মেয়েটা বিদেশ গেল...কেমন লাগে না!সন্তান দূরে চলে গেলে বুকের মধ্যে একটা কষ্ট হয়।ওইসব নিয়েই ভাবি।
ছেলে:বিদেশ গেসে তো কি হইসে,ওরা তো ভাল আছে মা..আচ্ছা মা আমাকে নিয়ে তোমার কোন টেনশান হয়না??
আম্মা:বাবা, তুমি তো চোখের সামনেই আসো,দেখতেসি ভাল আসো আল্লাহর রহমতে...
তারপর মা কথা শেষ করার আগেই ছেলেটা আবার আহ্লাদ করে বলতে লাগলো- ইউ ডোন্ট লাভ মি তাই না আম্মা??তুমি তোমার মেয়েদেরই বেশী ভালবাসো...নাহ আম্মা তুমি আমাকে ভালবাসো না....
আর আম্মাটা... পাগল ছেলের কথা শুনে সে কি সরল হাসি.... হেসেই যাচ্ছে... হেসেই যাচ্ছে...হাসতে হাসতেই বলছে,মা কখোনো কোনো সন্তানকে কম ভালবাসতে পারে নাকি বোকা!!
ছেলে বলছে:আচ্ছা আম্মা এখন রাখি, বাসায় ফিরে তোমার রান্না করা মুরগী দিয়ে ভাত খাব।
এই ভদ্রলোক জানেন না,কয়েক মিনিটে আমি কতবার তাদের মা সন্তানের কথা শুনে চোখ ভিজিয়েছি।
এই ভদ্রলোক জানেন,কিভাবে একটা সম্পর্ক সতেজ রাখতে হয়।
ওই ভদ্রলোক শেখালেন,বয়স যতই হোক সন্তান মায়ের কাছে সত্যিই বড় হয়না কখনো।ছোটবেলার আহ্লাদ, দুষ্টুমি, খুনসুটি দিয়ে বড় বেলাতেও একটা মাকে কতটা শান্তিতে রাখা যায়।
শিখলাম: 'মা' পাশে না থাকার জ্বালা কেমন । আর মা না থাকলে, আজ আমি কোথায় ভেসে যেতাম...
আমার' ''মা'' আর আমি ফ্রেন্ড এর মত ।দুষ্টামি , গাল টানা টানি , করতাম । আজ কত মিস করি
No comments:
Post a Comment