♪___________বায়না____________♪
সকলেই এক নয়.__(অনূগ্রহ করে সম্পূর্ন না পড়ে কমেন্ট
করবেন না)
.
আমায় যখন পড়ালেখার জন্য কে.জি
স্কুলে ভর্তি করা হয় তখন বয়স সম্ভবত চার
কি পাচ হবে! আমি নাকি খুবই দুষ্ট
প্রকৃতির ছিলাম!!
.
স্কুলে যাওয়ার জন্য বিভন্ন ধরনের বায়না
ধরতাম!! না দিলে স্কুলে যেতাম না!!
স্কুলের নাম করে পালিয়ে বেড়াতাম!!
যদিও এসব কথা পুরপুরি মনে নেই কিন্তু
মা'র মুখে থেকে শুনা কথা! ক্লাস টু'র পর
থেকে মোটামুটি মনে আছে!!
.
যখন ক্লাস টু'তে পড়ি তখন স্কুলে যাওয়ার
জন্য বায়না ধরলাম প্রতিদিন চার টাকা
করে দিতে হবে!! না দিলে স্কুলে যাবো
না!! তখনকার সময় চার টাকা অনেক কিছু
ছিল!!
.
যদিও আমাদের পরিবারের অবস্থা সেই
মূহুর্তে তেমন ভালো ছিল না!! তবু যত কষ্টই
হোক মা প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য
চার টাকার ব্যবস্থা করে দিতেন!!
.
এভাবে চলারপর ক্লাস থ্রী'তে উঠে
চাহিদাও বেড়ে গেল ৫ টাকা দিতে হবে!!
না হয় স্কুলে যাওয়া বন্ধ!! মা তাই মেনে
নিলো!! ৫ টাকাই প্রতিদিন অনেক কষ্টে
জোগার করে দিতে লাগলো!!
.
ক্লাস ফোর এ উঠে বায়না ধরলাম ১০
টাকা দিতে হবে!! না হয় একটাই ভয়
দেখাতাম,স্কুলে যাব না!! মা তাতেও
রাজি হল!! প্রতিদিন ১০ টাকা করেই
দিতে লাগলো!!
..
ক্লাস ছিক্সে যখন উঠলাম,বায়না ধরলাম
হেটে হেটে স্কুলে যেতে পারব না!!
সাইকেল কিনে দিতে হবে!! মায়ের চোখে
তখন বিন্দু বিন্দু অশ্রুকনা দেখেছিলাম
মনে আছে!!
.
তখন তো আর বুঝতাম না তাই আমার
সিদ্ধান্তে আমি অটুট ছিলাম!! সাইকেল
কিনে দিতেই হবে!! মা তখন তার কানের
দুল বিক্রি করে সাইকেল কিনে
দিয়েছিল!!
.
বাবাও এর পরপরই ভালো একটা চাকরি
পেয়ে গেল চট্রগ্রামে!! আমাদের
পরিবারের অভাব-অনোটন ও মোটামুটি দূর
হতে লাগলো!!
.
এভাবে সেভেন পার করে ৮ম শ্রেনীতে
উঠে বায়না ধরলাম কম্পিউটার কিনে
দিতে হবে!! আগের মত একটিই ভয়
দেখালাম লেখাপড়া বন্ধ!! যেহেতু
এতদিনে পরিবারের অবস্থা একটু স্বচ্ছল!!
তাই তারাও রাজি হল এবং কম্পিউটার
কিনে দিল!!
.
যখন S.S.C পরীক্ষার সময় হল তখন বায়না
ধরলাম পরীক্ষার পর মোটরসাইকেল কিনে
দিতে হবে!! তাতেও তারা রাজি!!
ভালোভাবে Ssc পরীক্ষা দিলাম!!
.
রেজাল্টও মোটামুটি ভালোই হল!! মা
খুশিতে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার
টাকাও জোগার করতে লাগলেন!!
.
এই প্রথম মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে
বলেছিলাম,না মা থাক মোটরসাইকেল
কিনতে হবে না!! ঐ টাকা ব্যাংকে রেখে
দাও!!
.
মায়ের চোখে সেদিনও বিন্দু বিন্দু অশ্রু
দেখেছিলাম!! তবে এই অশ্রু কষ্টের নয়
সুখের!! কেননা তার সেই ছোট্র ছেলেটি
আজ বুঝতে শিখেছে!!
.
আরও কত যে বায়না ধরেছি তার কোন
ইয়াত্তা নেই!! একটাই ভয় দেখিয়েছি
লেখাপড়া বন্ধ!! সেই ভয়ে,শত কষ্টের
মধ্যেও প্রত্যেকটি বায়না পূরন করেছে!!
কখনও কষ্ট উপলব্ধি করতে দেয় নি!!
.
লেখাপড়া মোটমুটি শেষ করে,চাকরি
করতে শুরু করলাম!! মোটা টাকা বেতন পাই
এখন!! সবই বাবা-মা এর অবদানে!!
.
.
[আর এখন সেই বাবা-মা যখন আমাদের
কাছে বায়না ধরে;বাবা ঘরে কিন্তু এই
নেই!! একবারের পর দ্বিতীয় বার বললে
ঝাড়ি দেই,,পারবো না তোমার সংসার
টানতে,,না থাকলে না খেয়ে থাকো,মরে
আমায় উদ্ধার কর,এসব আর ভালো লাগে
না!!
.
বউয়ের কথা শুনে বাবা-মাকে
বিদ্ধাশ্রমে রেখে আসি!! যারা কিনা
তাদের সবকিছু বিষর্জন দিয়ে আমাদের
মানুষ করেছেন!! যাদের কারনে পৃথিবীর
আলো দেখেছি!]
.
.
কি এমন ক্ষতি হত তাদের?? যখন ভয়
দেখাতাম,""না দিলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ
করে দিবো!! কোন ক্ষতি ছিল কি????
.
আর লেখাপড়া শিখিয়েই বা কি লাভ
হয়েছে??? কোন লাভ হয়েছে কি??? হ্যা
একটি লাভই হয়েছে,তার ছোট্র সেই
ছেলেটা আজ অনেক টাকা উপার্জন করে
সুখে-শান্তিতে আছে,বড় বড় নামিদামী
মানুষদের সাথে উঠা-বসা করছে!!
[[এটাই পৃথিবীর নিশ্বার্থ ভালোবাসা!!
সকল বাবা-মা দীর্ঘজীবি হোক]]
.
............[বিঃদ্রঃ সকলেই এক নয়]...............
No comments:
Post a Comment